ঈদযাত্রায় দক্ষিণমুখী মানুষের ঢল, পদ্মা সেতুতে একদিনে প্রায় ৪ কোটি টাকার টোল আদায়


admin প্রকাশের সময় : মে ২৭, ২০২৬, ১১:২২ AM /
ঈদযাত্রায় দক্ষিণমুখী মানুষের ঢল, পদ্মা সেতুতে একদিনে প্রায় ৪ কোটি টাকার টোল আদায়

আবুল হাসানাত (আকাশ), শিবচর প্রতিনিধি:

পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানী ছেড়ে নাড়ির টানে গ্রামের পথে ছুটছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষেরা। সরকারি ছুটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই সোমবার বিকেল থেকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু এলাকায় ঘরমুখো যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। দূরপাল্লার বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের অবিরাম চলাচলে পুরো মহাসড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া পরিবহনগুলো খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, যশোর ও পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে যাত্রী নিয়ে ছুটে চলছে। এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রী ওঠানামার ব্যস্ত দৃশ্যও ছিল চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি লোকাল বাস ও মোটরসাইকেলেও অনেকে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।

পদ্মা সেতু চালুর পর মোটরসাইকেলে যাতায়াতের প্রবণতা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। কেউ নিজের মোটরসাইকেলে, আবার কেউ ভাড়ায় চালিত বাইকে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। সময় বাঁচাতে ঈদের যাত্রায় মোটরসাইকেল এখন অনেকের কাছেই জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সোমবার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় রোববার বিকেল থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর দক্ষিণাঞ্চলমুখী বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়। তবে বুধবার থেকে চাপ আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

ঈদ উপলক্ষে পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন মাদারীপুরের শিবচরের বাসিন্দা সাব্বির হোসেন। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেও মুখে ছিল আনন্দের হাসি। তিনি বলেন,
বছরে দুই ঈদে পরিবারের সবাইকে নিয়ে গ্রামে যাই। বাড়ি ফেরাটা শুধু যাত্রা নয়, এটা আমাদের জন্য উৎসবেরই অংশ। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করার আনন্দই আলাদা।

ফরিদপুরগামী যাত্রী আদুরী আক্তার জানান, ভিড় বাড়ার আগেই তিনি বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। তার ভাষায়,আজই ফিরছি, কারণ আগামীকাল থেকে চাপ আরও বাড়বে। ঢাকার বাস কাউন্টারগুলোতেও যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে।

ভাঙ্গাগামী যাত্রী নাহিদ আহমেদ বলেন,পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। এখন ঢাকা থেকে গাড়িতে উঠতে পারলেই স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়।

অন্যদিকে মোটরসাইকেলে বরিশালের পথে যাত্রা করা রহমান মুন্সি জানান, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেই তিনি বাইকে বাড়ি ফিরছেন। তার মতে, মোটরসাইকেলে সময়ও কম লাগে, আবার যাত্রাটাও উপভোগ করা যায়।

সব মিলিয়ে ঈদকে ঘিরে পদ্মা সেতু ও ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এখন যেন ঘরমুখো মানুষের আনন্দযাত্রার প্রতিচ্ছবি। তীব্র গরম, দীর্ঘ পথ কিংবা যানবাহনের চাপ—সবকিছুকে ছাপিয়ে মানুষের চোখেমুখে এখন শুধুই প্রিয়জনের কাছে ফেরার উচ্ছ্বাস।

এদিকে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাইয়াদ নিলয় জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। এই সময়ে পদ্মা সেতু থেকে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকার টোল আদায় হয়েছে। তিনি বলেন, আজকের আদায়ের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে, কারণ সকাল থেকেই দক্ষিণাঞ্চলমুখী যাত্রী ও যানবাহনের চাপ অব্যাহত রয়েছে।