শিবচরে ইতালির প্রলোভনে লিবিয়ায় বিক্রির অভিযোগে প্রতারক গ্রেপ্তার


admin প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৮, ২০২৬, ৮:০১ PM /
শিবচরে ইতালির প্রলোভনে লিবিয়ায় বিক্রির অভিযোগে প্রতারক গ্রেপ্তার

আবুল হাসানাত (আকাশ), শিবচর প্রতিনিধি:

মাদারীপুরের শিবচরে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ভয়াবহ মানবপাচারের অভিযোগ উঠেছে। ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এক যুবককে লিবিয়ায় পাচার করে সেখানে মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সুমন খলিফার মা ছালমা বেগম (৪৬) পাঁচজনকে আসামি করে মাদারীপুরের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন বেকার থাকার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় পরিচিত কয়েকজন সুমনকে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেয়। শুরুতে তারা মোট ২০ লাখ টাকা দাবি করে। শর্ত অনুযায়ী, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময় ১০ লাখ টাকা এবং ভিসা সম্পন্ন হওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল।

২০২৫ সালের ১১ মে আসামিরা শিবচরের পশ্চিম কাকৈর এলাকায় সুমনের বাড়িতে এসে প্রথম দফায় প্রায় ১০ লাখ টাকা নগদ নেয় এবং তার পাসপোর্ট নিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে ধাপে ধাপে আরও টাকা আদায় করতে থাকে চক্রটি। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে আসামিদের দেওয়া একটি ব্যাংক হিসাবে একাধিক কিস্তিতে বড় অঙ্কের টাকা জমা দেওয়া হয়। এসব লেনদেনসহ মোট আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ২১০ টাকা।

মামলায় আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই সুমনকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ইতালির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। কিন্তু তিন দিন পর তিনি পরিবারকে জানান, তাকে ইতালির পরিবর্তে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়েছে।

এরপরও থেমে থাকেনি প্রতারক চক্র। তারা আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করে এবং নিরুপায় হয়ে পরিবার সেই টাকাও পরিশোধ করে। প্রায় তিন মাস পর সুমন ফোনে জানায়, তাকে লিবিয়ায় একটি মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তাকে জোরপূর্বক শ্রমে নিযুক্ত করা হয়েছে এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।

মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শিবচর থানা পুলিশ প্রধান আসামি মোতালেব খলিফা (৫৬)-কে শিবচর বাজারের ৭১ সড়ক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলার অন্য আসামিরা এখনো পলাতক রয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং সুমন খলিফাকে জীবিত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।