
আবুল হাসানাত (আকাশ), শিবচর প্রতিনিধি:
শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের আলেপুর এলাকায় এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে সোহেল ব্যাপারি (৩৮) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
নিহত সোহেল ব্যাপারি আলেপুর এলাকার বাসিন্দা। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে বাড়ির পাশের একটি স্থানে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পর থেকেই এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, সোহেল ব্যাপারিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার জুমার নামাজের পর উমেদপুর ইউনিয়নের চান্দেরচর বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “সোহেল একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ ছিলেন। তার আত্মহত্যার কোনো কারণ ছিল না। আমরা বিশ্বাস করি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।”
পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধান আসামি হিসেবে হাসান মাদবরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তার সহযোগী হিসেবে ইব্রাহিম মাতবর, কুদ্দুস মাদুর, আয়নাল মাদবর ও রিফাত মাদবরের নামও দাবি করা হয়। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের স্বজনদের আরও অভিযোগ, তারা থানায় মামলা করতে গেলে মামলা গ্রহণ করা হয়নি। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :