
আবুল হাসানাত (আকাশ), শিবচর প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার শিবচর মডেল মসজিদে এক আবেগঘন দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে আসরের নামাজ শেষে আয়োজিত এ মাহফিলে মহান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এর শহীদদের স্মরণে এক গভীর আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে পরিবেশ পবিত্র ও স্নিগ্ধ হয়ে ওঠে। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী লাখো বীর শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়ার সময় উপস্থিত মুসল্লিদের অনেককেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তে দেখা যায়—যেন ১৯৭১ সালের সেই ত্যাগ, বেদনা ও সংগ্রামের ইতিহাস নতুন করে হৃদয়ে নাড়া দেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহাম্মদ হানজালা।
সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. ইবনে মিজান। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মানুষ এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন,
মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতির জীবনে এক গৌরবোজ্জ্বল ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭১ সালে এই দেশের সূর্যসন্তানরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে আমাদের জন্য এনে দিয়েছেন স্বাধীনতা। সেই আত্মত্যাগের ইতিহাস যতবার স্মরণ করি, ততবারই আমাদের হৃদয় কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই দোয়া মাহফিল শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি আমাদের আত্মার আহ্বান। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাদের আদর্শ ও চেতনা আমাদের জীবনে ধারণ করার অঙ্গীকার। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে, যাতে তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি গভীর আবেগে আরও বলেন, এই স্বাধীনতা অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত। তাই এই দেশের প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে। দুর্নীতি, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে আমরা সবাই মিলে একটি মানবিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবো—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের অব্যাহত উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রার্থনা করা হয়।
এই দোয়া মাহফিল শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজনই নয়, বরং এটি ছিল স্বাধীনতার চেতনা, আত্মত্যাগের স্মৃতি এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার এক অনন্য উপলক্ষ—যা উপস্থিত সকলের হৃদয়ে গভীর ছাপ রেখে যায়।
আপনার মতামত লিখুন :