
মাদারীপুরে এক সারের ডিলার সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে সার মজুদ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিষ্ক্রিয়।
অভিযুক্ত ওই সারের ডিলার মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুরে মেসার্স জগদীশ ট্রেডার্স। ডিলারের স্বত্বাধিকারী মহাদেব কুন্ডু কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দামে সার বিক্রি করছেন।
শুক্রবার ভোরে ৪৫০ বস্তা পটাশ সারসহ এক ট্রাক অবৈধ ভাবে ক্রয় করে গুদামঘরে মজুদ করেন মেসার্স জগদীশ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মহাদেব কুন্ডু।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর বাজারে কৃষকদের কাছে সার বিক্রির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন মেসার্স জগদীশ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মহাদেব কুন্ডু। তার অধীনে অন্তত ১৫ জন সাব ডিলার রয়েছে। তিনি সদর উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় সার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। এ কারণে তিনি একাধিক গুদামে সার মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সার সংকটের ফলে কৃষকরা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অধিক মূল্যে সার ক্রয় করতে হচ্ছে। এ ছাড়াও সার কারখানা থেকে সিন্ডিকেট করে নিয়ম না মেনেও তিনি সার তার নিজ গুদামে মজুদ করেন। যা সম্পূর্ণ অবৈধ। নিয়ম অনুসারে সরকারি সার তৈরি কারাখানা থেকে সার ক্রয় করে মজুদ করার সময় কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে উপস্থিত রেখে গুদামজাত করতে হবে। অথচ এই সার ব্যবসায়ী সেই নিয়ম না মেনেই রাতের আধারে তার গুদামে সার মজুদ করেন।
কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে চাহিদা অনুসারে সার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দেওয়া হলে তখন সারের সংকট থাকে না। কৃষকরা সার কিনতে হিমশিম খাচ্ছে, অথচ ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সার বিক্রি করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কৃষি বিভাগ বা সরকারের কোন মাথা ব্যথাই নেই।
অভিযোগ পেয়ে মস্তফাপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মেসার্স জগদীশ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মহাদেব কুন্ডু তার গুদাম ঘরে তড়িঘড়ি করে পটাশিয়াম সার মজুদ করছেন। সাধারণ শ্রমিক ছাড়া সরকারি কোন কর্মকর্তা তখন ছিলেন না। সার মজুদ শেষে মহাদেব কুন্ডুর কাছে কারখানা থেকে সার ক্রয়ের চালানের কাগজ দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স জগদীশ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মহাদেব কুন্ডু বলেন, আমার সার বৈধ। সব নিয়ম মেনেই সার ক্রয় করা হয়েছে। আপনারা যা খুশি লিখতে পারেন।
মাদারীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, মেসার্স জগদীশ ট্রেডার্সে নামে সার ডিলারের বিরুদ্ধে আমরা বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তার গুদামে অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :