শিবচরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি গাছ কাটার অনুমতি, উধাও তিনটি


admin প্রকাশের সময় : জুলাই ৩১, ২০২৬, ৭:৫৯ PM /
শিবচরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি গাছ কাটার অনুমতি, উধাও তিনটি

আবুল হাসানাত (আকাশ), শিবচর প্রতিনিধি:

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ৭ নম্বর চরসম্ভুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত একটি চাম্বুল গাছ কাটার সরকারি অনুমতি নিয়ে আরও দুটি মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত গাছ কাটার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে গাছের গোড়া মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শামীমা নাসরিনকে শোকজ করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে উপজেলা শিক্ষা বিভাগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ঝড়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের একটি চাম্বুল গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি অপসারণের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গত ১৪ জুলাই ২০২৬ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. ইবনে মিজানের সভাপতিত্বে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে গাছটি ২ হাজার ২৬০ টাকায় বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়। নিলামে বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি গাছ কাটার অনুমতির সুযোগ নিয়ে রাতের আঁধারে আরও দুটি মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। তাদের দাবি, নিলামে চাম্বুল গাছটির মূল্য ২ হাজার ২৬০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে সেটি প্রায় ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি অনুমতি ছাড়াই কাটা দুটি মেহগনি গাছও পৃথকভাবে বিক্রি করা হয়েছে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতিরিক্ত কাটা গাছগুলোর গোড়া মাটি দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে মাটি খুঁড়ে একটি বড় মেহগনি গাছের গোড়া উদ্ধার করা হয়। এতে অতিরিক্ত গাছ কাটার অভিযোগ আরও জোরালো হয়।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে দাবি করে, দুটি গাছ কাটার অনুমতি ছিল। তবে পরে তারা মাত্র একটি গাছ কাটার অনুমতিপত্র দেখাতে সক্ষম হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হেমায়েত হোসেন বলেন,আমরা দুটি গাছ কাটার অনুমতি পেয়েছি এবং দুটি গাছই কেটেছি। তিনটি গাছ কাটার অভিযোগ সঠিক নয়।

বিদ্যালয়ের দপ্তরি লোকমান মিয়া জানান, বিদ্যালয়ে দুটি গাছ কাটা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে আরও একটি মেহগনি গাছের গোড়া উদ্ধার হওয়ায় অতিরিক্ত গাছ কাটার অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে।

স্থানীয় এক সাবেক ইউপি সদস্য বলেন,একটি গাছ কাটার অনুমতি নিয়ে তিনটি গাছ কাটা হয়েছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, অনুমতি ছিল একটি গাছের। কিন্তু তিনটি গাছ বিক্রি করা হয়েছে। অনুমোদিত গাছটি স্থানীয় ব্যবসায়ী রাজা কাজির কাছে প্রায় ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। বাকি দুটি গাছ অন্য একজনের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। পুরো ঘটনাই রাতের আঁধারে ঘটেছে।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা উর্মী আক্তার বলেন,বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে জানিয়েছিল, একটি গাছ কাটার সময় পাশের আরেকটি গাছ ভেঙে যায়। পরে সেটি কাটার অনুমতি চাওয়া হয়। তবে অতিরিক্ত গাছ কাটার অভিযোগ জানতে পেরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়্যেদাতুন নেছা রূপা বলেন,প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে শুধুমাত্র একটি চাম্বুল গাছ বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। পরে গণমাধ্যম ও স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি, অতিরিক্ত আরও দুটি গাছ কাটা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে শোকজ করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সম্পদ বিক্রিতে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণ এবং সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

2