তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ শিবচরবাসী, কম ব্যবহারেও বেশি বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ


admin প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৩, ২০২৬, ৯:১৮ PM /
তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ শিবচরবাসী, কম ব্যবহারেও বেশি বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ

আবুল হাসানাত (আকাশ), শিবচর প্রতিনিধি:

তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা ঘনঘন লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাসিন্দারা। দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। এর মধ্যেই নতুন করে ক্ষোভ তৈরি করেছে বিদ্যুৎ বিল। গ্রাহকদের অভিযোগ, আগের মাসের তুলনায় বিদ্যুতের ব্যবহার কম হলেও এ মাসে বিল এসেছে বেশি। ফলে একদিকে বিদ্যুৎ সংকট, অন্যদিকে অতিরিক্ত বিল—দুই দিক থেকেই বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার দিবাগত রাত থেকে সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। কোথাও আধা ঘণ্টা, কোথাও এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার কাদিরপুর এলাকার বাসিন্দা নয়ন খাঁন বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে দিনে গড়ে সাত থেকে আট ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। এত কম সময় বিদ্যুৎ পেয়ে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

শিবচর পৌর এলাকার বাসিন্দা মেহেদি হাসান বলেন,এক ঘণ্টাও ঠিকমতো বিদ্যুৎ থাকে না। বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ছোট শিশুদের নিয়ে অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য গ্রাহক। তাদের দাবি, অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে।

লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল নিয়েও বাড়ছে অসন্তোষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, বিদ্যুতের ব্যবহার কম হলেও আগের মাসের তুলনায় এ মাসে বিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি এসেছে।

একজন গ্রাহক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ঠিকমতো বিদ্যুৎই পাই না, অথচ আগের মাসের চেয়ে বেশি বিল এসেছে। এর ব্যাখ্যা কী? আরেকজন লিখেছেন,দিনভর লোডশেডিং, রাতে গরমে ঘুমানোর উপায় নেই। তারপরও প্রায় এক হাজার টাকা বেশি বিল এসেছে।

বিদ্যুতের এমন অনিয়মিত সরবরাহের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। অনেক এলাকায় পানির মোটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও উৎপাদন ও সেবাদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। রাতের বেলায় ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার বলেন,এটি শুধু মাদারীপুরের সমস্যা নয়, বর্তমানে সারা দেশেই বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। প্রতিদিন জেলার চাহিদার তুলনায় গড়ে ১৫ থেকে ২০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার সময় জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন,জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে জেলার পরিস্থিতিও দ্রুত উন্নতি হবে বলে আশা করছি।

এদিকে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, শুধু লোডশেডিং নয়, বিদ্যুৎ বিলের অসঙ্গতির বিষয়টিও দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে দ্রুত সমাধান করা সময়ের অন্যতম দাবি।

2