টিকটক দেখে ৫০ হাজারে চায়ের দোকান, মাসে আয় দেড় লাখ


admin প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩, ২০২৬, ৫:৪৮ PM / ০
টিকটক দেখে ৫০ হাজারে চায়ের দোকান, মাসে আয় দেড় লাখ

আবুল হাসানাত (আকাশ), শিবচর প্রতিনিধি:

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নের নান্নু চেয়ারম্যান এর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় মাত্র ৫০ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে চায়ের দোকান গড়ে তুলে সাড়া ফেলেছেন কয়েকজন কলেজশিক্ষার্থী। টিকটকে কুমিল্লার একটি মালাই চায়ের ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের শ্রম ও উদ্যোগে তারা গড়ে তোলেন ‘চায়ের কুটির’। মাত্র এক মাসের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দোকানটি ভাইরাল হয়ে এখন দূর-দূরান্তের মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নান্নু চেয়ারম্যান ব্রিজসংলগ্ন যে জায়গাটিতে তারা নিয়মিত বিকেলে আড্ডা দিতেন, সেখানেই চায়ের দোকান দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তারা। পরে নিজেদের উদ্যোগে মাত্র ৫০ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে শুরু করেন ব্যবসা।

তবে শুরুটা খুব সহজ ছিল না। দোকানের স্থাপনা নির্মাণের সময় স্থানীয় অনেকেই তাদের নিয়ে হাস্যরস করেন। কিন্তু এসব কথায় কান না দিয়ে নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থাকেন শিক্ষার্থীরা। শেষ পর্যন্ত চালু হয় ‘চায়ের কুটির’।

দোকান চালুর কয়েক দিনের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ‘চায়ের কুটির’-এর ভিডিও। টিকটক, ফেসবুক ও ইউটিউবে দোকানটির বিভিন্ন ভিডিও দেখে বাড়তে থাকে মানুষের আগ্রহ। এরপর প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকানটিতে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

শুধু শিবচর নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও এখন মানুষ আসছেন ‘চায়ের কুটিরে’। কেউ পরিবার নিয়ে, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে ছুটে আসছেন। চায়ের স্বাদের পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবেশ ও খোলামেলা আড্ডার পরিবেশও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে।

দর্শনার্থী সুবর্ণা আক্তার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওর মাধ্যমে প্রথমবার এই জায়গাটির কথা জানতে পারেন তিনি। ভিডিওটি দেখার পর থেকেই জায়গাটি ঘুরে দেখার আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর থেকে সুযোগ পেলেই স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে এখানে ছুটে আসেন। তিনি বলেন, সপ্তাহে প্রায় দুই দিন শিবচর থেকে এখানে আসা হয় তাদের। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি তার কাছে বেশ ভালো লাগে। চায়ের স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি এখানকার মনোরম গ্রামীণ পরিবেশ, খোলামেলা জায়গা এবং নিরিবিলি আবহ তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। সুমাইয়া আক্তারের ভাষায়, ‘এখানে আসার পর মনে হয় ব্যস্ততা থেকে কিছুটা সময় দূরে এসে আপনজনদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাতে পারছি। সত্যি বলতে, জায়গাটির পরিবেশ আমার কাছে অনেক সুন্দর লাগে। তাই সুযোগ পেলেই স্বজনদের নিয়ে আবারও এখানে চলে আসি।

সুবর্ণার আক্তারের ছোট বোন রুমাইছা আক্তার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখার পর থেকেই জায়গাটি ঘুরে দেখার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে আপু ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কয়েকবার এখানে এসেছি। প্রতিবারই এখানে এসে বেশ ভালো সময় কাটে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে এখানকার পরিবেশটা অনেক সুন্দর লাগে। চারপাশের গ্রামীণ আবহ, খোলামেলা পরিবেশ আর আপনজনদের সঙ্গে আড্ডা—সব মিলিয়ে সময়টা অন্যরকম আনন্দের হয়ে ওঠে। শুধু চা খাওয়ার জন্য নয়, পরিবারের সবাই মিলে কিছুটা সময় আনন্দে কাটাতেও জায়গাটি বেশ ভালো। সুযোগ পেলেই তাই আবারও এখানে আসতে চাই।

আরেক দর্শনার্থী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘চায়ের কুটির’-এর কথা জানতে পেরে বন্ধুদের সঙ্গে এখানে এসেছেন। চায়ের পাশাপাশি এখানকার পরিবেশও তার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।

‘চায়ের কুটির’-এর উদ্যোক্তা সবুজ মিয়া বলেন, প্রায় এক মাস আগে তারা দোকানটি শুরু করেছেন। শুরুতে কিছুটা নার্ভাস থাকলেও বর্তমানে ভালোভাবেই চলছে ব্যবসা। ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এখানে চা খেতে আসছেন। ভবিষ্যতে চায়ের দোকানের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে চান তারা।

আরেক উদ্যোক্তা দ্বীন ইসলাম বলেন, টিকটকে কুমিল্লার একটি মালাই চায়ের ভিডিও দেখে তাদের এমন একটি দোকান দেওয়ার চিন্তা আসে। পরে নিজেদের উদ্যোগে মাত্র ৫০ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে ‘চায়ের কুটির’ গড়ে তোলেন তারা।

তিনি জানান, দোকানে মালাই চা, পোড়া রুটি, দুধ চা ও কফি পাওয়া যায়। প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কেজি দুধ দিয়ে চা তৈরি করা হয়। পাশাপাশি ২০ থেকে ২৫ কেজি রুটিও বিক্রি হয়। তাদের প্রতিদিনের আয় প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

উদ্যোক্তাদের দাবি, বর্তমানে সব মিলিয়ে মাসে তাদের আয় প্রায় দেড় লাখ টাকা। মাত্র ৫০ হাজার টাকা মূলধন দিয়ে শুরু করা এই উদ্যোগ এক মাসের মধ্যেই তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, পড়াশোনার পাশাপাশি কলেজশিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগ অন্য তরুণদেরও স্বাবলম্বী হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণাকে কাজে লাগিয়ে নান্নু চেয়ারম্যান ব্রিজসংলগ্ন এলাকার এই ‘চায়ের কুটির’ এখন শিবচরের একটি পরিচিত আড্ডাস্থল হয়ে উঠছে।

2