

আবুল হাসানাত (আকাশ), শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ওলী ফকিরের উদ্যোগে জনস্বার্থে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে ইউনিয়নের শেখপুর বাজারে মশা নিধনের ওষুধের ধোঁয়া দেওয়া হয়।
এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বাজারের বিভিন্ন সড়ক, দোকানপাট ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় মশা নিধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় বাজারের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁদের মতে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বর্ষা-পরবর্তী সময়ে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ওলী ফকির বলেন,জনগণের কল্যাণে কাজ করাই আমার মূল লক্ষ্য। মশার উপদ্রব মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। মশা থেকে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। তাই সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে শেখপুর বাজারে মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছি। আমি চাই, আমাদের এলাকার মানুষ সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করুক।
তিনি আরও বলেন, জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকতে চাই। এলাকার মানুষের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সাধ্যমতো সহযোগিতা করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
শেখপুর বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি এনামুল শিকদার বলেন,শেখপুর বাজারে মশার উপদ্রব কমাতে এ পর্যন্ত কোনো চেয়ারম্যান বা মেম্বারকে এ ধরনের উদ্যোগ নিতে দেখিনি। সেখানে ওলী ফকির নিজ উদ্যোগে জনস্বার্থে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগকে আমি আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই। জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগেই যিনি সাধারণ মানুষের সমস্যা উপলব্ধি করে জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসেন, তিনি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
শেখপুর বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন,বাজারে প্রতিদিন অনেক মানুষ কেনাকাটা করতে আসেন। দোকানদারদের দীর্ঘ সময় দোকানে থাকতে হয়। মশার উপদ্রব বাড়লে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত নেওয়া হলে বাজারের পরিবেশ কিছুটা স্বস্তিদায়ক হবে এবং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।
তাঁরা আরও বলেন,শুধু একদিন মশা নিধন করলেই হবে না, নিয়মিতভাবে এ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি বাজার ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি অপসারণ, নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
স্থানীয়দের মতে, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত কার্যক্রমও জরুরি। বাজার ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা গেলে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
শেখপুর বাজারে ওলী ফকিরের উদ্যোগে পরিচালিত এ মশক নিধন কার্যক্রমকে স্থানীয়রা একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এলাকার জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন :