নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মায় ইলিশ শিকার, নদীপাড়ে জমজমাট ইলিশের হাট


admin প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৬, ২০২৫, ৮:৫০ PM / ৩৮৮
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মায় ইলিশ শিকার, নদীপাড়ে জমজমাট ইলিশের হাট

মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চললেও মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পদ্মানদীতে থামছে না ইলিশ শিকার। আইন অমান্য করে অসাধু জেলেরা রাতদিন জাল ফেলে ইলিশ ধরছেন। শুধু তাই নয়, নদীর পাড়েই বসছে অস্থায়ী ইলিশের হাট যেখানে প্রকাশ্যেই চলছে কেনাবেচা।

পদ্মাবেষ্টিত বন্দরখোলা, মাদবরেরচর, চরজানাজাত ও কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের পদ্মাপাড়জুড়ে এসব হাটে প্রতিদিনই ভিড় জমছে ক্রেতাদের। দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষ সস্তায় ইলিশ কিনতে ভিড় করছেন সেখানে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান জানান, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে নদীতে নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে লোকবল সংকট এবং জেলেদের সংঘবদ্ধ প্রতিরোধের কারণে অভিযান পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় হামলারও শিকার হতে হচ্ছে প্রশাসনের সদস্যরা।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ১০ দিনে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৪ লাখ ১৪ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ ও পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এ সময়ে ২৪ জন জেলেকে কারাদণ্ড এবং ২৩ জনকে ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ করা ইলিশ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

তবুও জেলেরা থামছে না। প্রতিদিনই নতুন করে জাল ফেলা, মাছ ধরা ও বিক্রি অব্যাহত রেখেছে তারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শিবচরের বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা পদ্মাপাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে গড়ে উঠেছে জমজমাট ইলিশের অস্থায়ী হাট। বিকেল গড়াতেই একের পর এক মাছ ধরার ট্রলার ভিড়ছে ঘাটে, আর বিক্রেতারা সেই মাছ ভাগ করে পাইকারি বিক্রি করছেন।

বড় আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১,২০০ থেকে ১,৬০০ টাকা কেজিতে, আর ছোট ইলিশ মিলছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। হাটে ভিড় বাড়ায় স্থানীয়রাও বসেছেন নানা মুখরোচক খাবারের দোকান নিয়ে।

ভদ্রাসন থেকে মাছ কিনতে আসা ক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, সাধারণ সময়ে যে দামে ইলিশ পাওয়া যায়, এখন তার অর্ধেক দামে কিনতে পারছি। তাই দূর থেকে এসেছি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন বা সেনাবাহিনীর সদস্যরা পদ্মার চরাঞ্চলের দিকে অভিযান চালাতে গেলেই খবর পৌঁছে যায় বিক্রেতাদের কাছে। তখন তারা কাশবনে লুকিয়ে পড়ে, আর জেলেরা ট্রলার নিয়ে মাঝনদীতে সরে যায়। ফলে অভিযান ব্যর্থ হয় বেশিরভাগ সময়েই।

নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন জেলে জানান, মাছ না ধরলে খাওয়া চলবে না। পরিবারকে না খাইয়ে তো রাখা যায় না। মাছও প্রচুর মিলছে, বিক্রিও ভালো হচ্ছে। মানুষ ১০–১৫ কেজি পর্যন্ত কিনে নিচ্ছে একসঙ্গে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, নিষিদ্ধ সময়েও যারা গোপনে মাছ ধরছেন, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নৌকা, জাল জব্দসহ জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। তবে জনবল কম থাকায় শতভাগ সফলতা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না।

শিবচর ইউএনও এইচ. এম. ইবনে মিজান জানান, পদ্মাপাড়ের হাটগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধে আমরা বড় ধরনের অভিযান চালাব। সেনাবাহিনীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই যৌথ অভিযান শুরু হবে।

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পদ্মায় অবাধে চলছে ইলিশ শিকার ও বেচাকেনা। প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকলেও জেলেদের সংঘবদ্ধতা ও লোকবল সংকটের কারণে কার্যকর নিয়ন্ত্রণে আসছে না পরিস্থিতি।

2