
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দেশের মধ্যাঞ্চলের শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া খাদ্য গুদামে চলতি মৌসুমে আমন চাল ও ধান সংগ্রহ কার্যক্রম লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী সদর উপজেলার আংগারিয়া খাদ্য গুদামে সেগুলো সংরক্ষণও করা হয়েছে।
এবার আমন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৩৬.০০০ মেট্রিক টন হলেও চালের গুণগত মান খুবই ভাল পাওয়ায় অতিরিক্ত ২২.০০০ মেট্রিক টন চাল এবং ১১১ জন কৃষকের কাছ থেকে ৩৩৩ মেট্রিক টন আমন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আংগারিয়া ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা শাহনেয়াজ আলম।
আংগারিয়া খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, গত নভেম্বরে মাসে সদর উপজেলার আংগারিয়া খাদ্য গুদামে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের ৩৬.০০০ মেট্রিক টন আমন চাল ও অনির্দিষ্টি সংখ্যক মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সরকার। যা চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি মাসের মধ্যই অর্জন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পরে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া খাদ্য গুদাম ২২.০০০ মেট্রিক টন অতিরিক্ত চাল এবং ১১১ জন কৃষকের কাছ থেকে ৩৩৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করেন। যা প্রত্যেক কৃষককে তাদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দাম পরিশোধ করা হয়।
আংগারিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহনেয়াজ আলম বলেন, “আমিসহ আমাদের খাদ্য কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতিতে আমরা এ বছর আমন চাল ও ধান সংগ্রহ করেছি। যাতে চাল ও ধান নিয়ে কেউ কোনো ধরনের অভিযোগ তুলতে না পারে। খুবই উন্নত মানের ধান ও চাল এ বছর আমরা সংগ্রহ করতে পেরেছি।”
খাদ্য গুদামের সংগ্রহ করা এসব আমন চাল শরীয়তপুর জেলার পুলিশের রেশন, ভিডব্লিউবি, আনসার সদস্যদের রেশন, কাবিখা, জিআর, ওএমএস, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি, টিসিবিসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও সেবামূলক খাতে খরচের জন্য বরাদ্দ করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, এ বছর চরমুগরিয়া খাদ্য গুদামে ১৪ শতাংশ আর্দ্রতা মেশিনের সাহায্যে পরিমাপ করে আমন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। এবার গুদামজাত করণ চালের কোয়ালিটি অনেক ভাল পাওয়া গেছে। এবার আংগারিয়া খাদ্য গুদামে দুই জন মিল মালিকের কাছ থেকে চাল ও প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এই বিষয়ে শিকদার রাইস মিলের মালিক সোহরাব শিকদার বলেন, ‘উপজেলার আংগারিয়া খাদ্য গুদামে চলতি আমন মৌসুমে আমি সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী অত্যন্ত উন্নত মানের সিদ্ধ আমন চাল ৫০ টাকা কেজি দরে সরবরাহ করেছি। আমার সরবরাহ করা চাল নিয়ে কেউ কোন অভিযোগ যাতে না উঠাতে পারে, সেজন্য আমি সরবরাহ করা চালের কোয়ালিটিতে কোন অবহেলা করিনি। সরকারের বেঁধে দেওয়া গুনগত মানের চেয়ে ভালো মানের চাল গুদামে দিয়েছি।’
সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শেখ আব্দুর রাজজ্জাক বলেন, ‘আংগারিয়া খাদ্য গুদামের এসব চালের আর্দ্রতা ১৪ শতাংশের এর নীচে পরিমাপ করে সংগ্রহ করেছি। আমন ধানও আমরা একই পদ্ধতিতে সংগ্রহ করেছি। যাতে কোনো ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি না হয়। নীতিমালা অনুযায়ী সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে চাল কেনে না, কৃষকের কাছ থেকে কেনা হয় ধান। আর চাল কেনা হয় মিলার বা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। তাই মিলারদের কাছ থেকেই আমরা চাল ও কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করেছি।
আপনার মতামত লিখুন :