ইলেকট্রিক শক জালে নিঃশেষ হচ্ছে শিবচরের নদ-নদী, হুমকিতে মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য


admin প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৯, ২০২৬, ১২:২৬ PM / ১২৩
ইলেকট্রিক শক জালে নিঃশেষ হচ্ছে শিবচরের নদ-নদী, হুমকিতে মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় নিষিদ্ধ ইলেকট্রিক শক পদ্ধতিতে মাছ শিকারের ভয়াবহ তাণ্ডব চলছে। পদ্মা নদী, আড়িয়াল খাঁ নদ এবং বিল পদ্মা এলাকায় এই অবৈধ শিকারের ফলে রেণু-পোনা, মাছের ডিমসহ নানা প্রজাতির জলজ প্রাণী নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছে। এতে করে পুরো এলাকার মৎস্য সম্পদ ও প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য চরম সংকটের মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার মাদবরের চর, কাঁঠালবাড়ি ও চর জানাজাত ইউনিয়নের নদ-নদীগুলোতে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্র নৌকায় করে ইনভার্টার ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি বহন করে বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে পানিতে শক দেয়। এতে নির্দিষ্ট এলাকার সব ধরনের ছোট-বড় মাছ ও জলজ প্রাণী মুহূর্তেই অচেতন হয়ে পানির ওপরে ভেসে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, চক্রের সদস্যরা সারারাত ধরে এই নিষিদ্ধ কার্যক্রম চালিয়ে ভোরের আগেই ধরা মাছ মাদবরের চর ও পাঁচ্চর এলাকার বিভিন্ন আড়ত ও বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করে পালিয়ে যায়। প্রতিটি নৌকা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত মাছ ধরা হচ্ছে, যার বড় অংশই রেণু-পোনা ও ছোট আকারের মাছ।

এই অবস্থায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জেলেরা। তাঁদের ভাষ্য, ইলেকট্রিক শক ব্যবহারের কারণে স্বাভাবিক উপায়ে মাছ ধরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বেড জালসহ প্রচলিত জালে আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই দেশীয় প্রজাতির মাছ এই অঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেছেন, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ শিকার চলছে। ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অভিযানও অনেক সময় কার্যকর হচ্ছে না।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, ইলেকট্রিক শক পদ্ধতিতে মাছ শিকারের তথ্য তারা পেয়েছেন। কয়েক দফা অভিযান চালানো হলেও ঘটনাস্থলে জড়িতদের পাওয়া যায়নি। তবে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং দ্রুতই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নদী ও বিলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে অবিলম্বে এই ঘাতক পদ্ধতি বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন উপজেলার সচেতন মহল।