
মাদারীপুরের কালকিনিতে দরিদ্র জেলেদের মাঝে মৎস্য অফিস কর্তৃক বকনা বাছুর বিতরণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স শায়েলা হাঁস মুরগী সাপলাই সেন্টারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিতরনকৃত প্রতি বকনা বাছুর ৬০ কেজির উপরে ওজন থাকার কথা থাকলেও ওজনে কম হওয়ায় ১৩টি বকনা বাছুর ফেরত পাঠিয়েছে প্রশাসন। এ ঘটনায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জেলেরা।
অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিকল্প জীবিকা উপার্জনের জন্য নিবন্ধিত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৬০ জন দরিদ্র জেলের জন্য ৬০টি বকনা বাছুর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রদান করেন উপজেলা মৎস্য অফিস কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি বাছুরের মূল্য ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৮০০ টাকা।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে কালকিনি উপজেলা পরিষদ চত্বরে বকনা বাছুর প্রদান অনু্ষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা মৎস্য অফিস। কিন্তু প্রতিটি বাছুরের ওজন থাকার কথা ছিল ৬০ কেজির উপরে। কিন্তু ঠিকাদার দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ৬০টি বাছুরের মধ্যে অল্প দামে ৬০ কেজির নিচে ১৩ বাছুর সংগ্রহ করেন।
এ বাছুর বিতরণকালে প্রশাসন পরিমাপ করে দেখেন ৬০টির মধ্যে ১৩টি বাছুরের ওজন ৬০ কেজির নিচে আছে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল আরেফিনের নির্দেশে ওই ১৩টি বাছুর ঠিকাদারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়।
এদিকে বাকি ১৩ জন জেলে বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মৎস্য অফিস ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।
এ বাছুর বিতরন অনু্ষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরাফীনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার পলাশ হালদার ও সহকারি উপজেলা মৎস্য অফিসার প্রনব কুমার দাশসহ অন্যান্য কর্মকর্তা বৃন্দ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জেলে জানান, মৎস্য অফিসারের যোগসাজসে ঠিকাদার অল্পদামে ৬০টি বাকনা বাছুর ক্রয় করেন যার মধ্য মধ্যে ১৩টি বাছুর পরিমাপে ও ওজনে কম এবং রোগাক্রান্ত ছিলো। ঠিকাদারের এই অনিয়ম ধরার পরায় ওই বাছুর ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিষয়টি শিকার করে বলা হয় ওজনে একটু কম থাকায় বাছুর ফেরত দেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফিন বলেন, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য জেলেদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বকনা বাছুর (গরু) প্রদান করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সময়ে জেলেরা যেন মাছ এবং শামুক ধরা থেকে বিরত থাকেন। আর ওজন কম দেয়া ১৩টি গরু ঠিকাদের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :