
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চর ইউনিয়নে যেন রীতিমতো ভোটের উৎসব শুরু হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ইউনিয়নের দুটি গ্রামে বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো ধারাবাহিক দুই উঠান বৈঠক, যেখানে অংশ নেন কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটার।
সন্ধ্যায় ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বালাকান্দি গ্রামে অনুষ্ঠিত প্রথম উঠান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ড বিএনপি নেতা খবির বেপারী এবং আয়োজন করেন সাবেক ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন বেপারী।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান হোসেন (সাজু) মোল্লা এবং পাচ্চর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বকুল ঢালী। উপস্থিত ছিলেন কোহিনুর চেয়ারম্যান, শিশু সরদার, মোতাহার হোসেন বেপারীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সান ঢালী, মাসুদ বেপারী, জুলহাস শিকদার, সরোয়ার মাদবর, হালিম ভৈরব, রতন শিকদার, মিজু বেপারী ও মান্নান আকন।
রাত ৮টায় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাজিপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় উঠান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আলিমুজ্জামান বকুল ঢালী এবং আয়োজন করেন পাচ্চর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিটন মুন্সি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আবুল কালাম, বিএনপি নেতা নাসিম ও ফয়সাল মোল্লাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কামাল জামান মোল্লা বলেন,
“আজকের এই জনসমাগম প্রমাণ করে মানুষ আর ভয় নয়, ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়। এই নির্বাচন হবে মানুষের ভোটে মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠার নির্বাচন। আপনারা সবাই কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিলে কেউ আর ভোট ডাকাতি করতে পারবে না।”
তিনি বলেন, “পাচ্চরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে এই আসনে বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শাহজাহান হোসেন (সাজু) মোল্লা বলেন,
“এই উঠান বৈঠক শুধু সভা নয় — এটি মানুষের মনে সাহস ফেরানোর আন্দোলন। আমরা প্রতিটি ভোটারকে কেন্দ্রে আনার শপথ নিয়েছি। একটি ভোটও যেন নষ্ট না হয়, সেটিই আমাদের লড়াই।”
দুটি বৈঠকেই সাধারণ ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আগামী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং বিএনপি প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই দুই উঠান বৈঠক পাচ্চর ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতি এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
আপনার মতামত লিখুন :