ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে কামাল জামান মোল্লার সমর্থকদের মশাল মিছিল, ঘণ্টাব্যাপী যান চলাচল বন্ধ


admin প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৭, ২০২৫, ১১:২৪ AM / ২৭৮
ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে কামাল জামান মোল্লার সমর্থকদের মশাল মিছিল, ঘণ্টাব্যাপী যান চলাচল বন্ধ

মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের প্রতিবাদে কামাল জামান মোল্লার সমর্থকেরা ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে মশাল মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এক্সপ্রেসওয়ের মোল্লাবাজার এলাকা থেকে শুরু হওয়া ওই মিছিলে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। মশাল হাতে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে দিতে মুন্সিবাজারমুখী সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান নিলে এক্সপ্রেসওয়ের উভয়মুখী যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।

সম্প্রতি মাদারীপুর-১ আসনে নতুন প্রার্থী হিসেবে নাদিরা আক্তারকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এর আগে গত ৩ নভেম্বর কামাল জামান মোল্লাকে একই আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। সেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের প্রতিবাদেই শনিবারের এই মশাল মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।

অবরোধের ফলে পদ্মা সেতু থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাজুড়ে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় আটকে পড়ে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, “যোগ্যতা বিবেচনায় আমাদের প্রিয় নেতা কামাল জামান মোল্লাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা বাতিল করে অযৌক্তিকভাবে অন্য একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমরা তার মনোনয়ন পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান মোল্লা (সাজু মোল্লা) বলেন,
“শিবচরে বিএনপির সংগঠন ও আন্দোলনের যে ভিত তৈরি হয়েছে, তা কামাল জামান মোল্লার হাত ধরেই। তিনি শুধু একজন সাংগঠনিক নেতা নন, বরং এই এলাকার মানুষের আস্থা, ভালোবাসা ও বিশ্বাসের প্রতীক। কেন তার মনোনয়ন স্থগিত করা হলো—এ প্রশ্নের জবাব শিবচরবাসী জানতে চায়। আমরা মনে করি, তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে দলীয় কর্মীসমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ বাড়বে। আগামী তিন দিনের মধ্যে মনোনয়ন ফিরিয়ে না দিলে দক্ষিণবঙ্গমুখী সকল যোগাযোগব্যবস্থা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শিবচরের প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি ওয়ার্ডে, প্রতিটি ইউনিয়নে কামাল জামান মোল্লা-ই আমাদের নেতৃত্বের ভরসা। তার প্রতি অন্যায় হলে আমরা চুপ করে বসে থাকব না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় করব।”

বিক্ষোভ শেষে রাত সাড়ে সাতটার দিকে সমর্থকেরা সড়ক থেকে সরে গেলে এক্সপ্রেসওয়ের যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।