পোস্টাল ব্যালটে পাল্টে গেল ফল: ৩৮৫ ভোটে শিবচরে হানজালার জয়


admin প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২৬, ১০:৩৯ AM /
পোস্টাল ব্যালটে পাল্টে গেল ফল: ৩৮৫ ভোটে শিবচরে হানজালার জয়

আবুল হাসানাত (আকাশ), শিবচর প্রতিনিধি:

মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালটের ভোটেই নির্ধারিত হয়েছে ফলাফল। মাত্র ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তারকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ১১ দলীয় সমর্থিত প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা।

কেন্দ্রের ভোটে এগিয়ে ছিলেন নাদিরা
নির্বাচনের দিন ১০২টি কেন্দ্রের অধিকাংশে এগিয়ে ছিলেন বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৯১ ভোট। অন্যদিকে রিকশা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫১১ ভোট।

কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, প্রাথমিক গণনায় নাদিরা আক্তার এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান ছিল তুলনামূলক কম। ফলে শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে পোস্টাল ব্যালটের ভোট।

পোস্টাল ব্যালটে বদলে যায় চিত্র পোস্টাল ব্যালট গণনা শেষে নাটকীয়ভাবে পাল্টে যায় ফলাফল। সেখানে সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা পান ১ হাজার ৩৯৮ ভোট, আর নাদিরা আক্তার পান মাত্র ২৩৩ ভোট।

পোস্টাল ব্যালট যুক্ত হওয়ার পর মোট ভোটের হিসাবে হানজালা পান ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট এবং নাদিরা আক্তার পান ৬৪ হাজার ৫২৪ ভোট। ফলে মাত্র ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন হানজালা।

এ আসনে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা। তিনি পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৬৪ ভোট।

এছাড়া অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে:
আকরাম হোসেন (ইসলামি আন্দোলন) — ৬ হাজার ২০৫ ভোট, রাজিব মোল্লা — ৩ হাজার ২৬ ভোট, সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী — ৩ হাজার ৫৯ ভোট, ইমরান হাসান — ২৪৭ ভোট, আব্দুল আলী — ২০৮ ভোট, জহিরুল ইসলাম মিন্টু — ১৮০ ভোট
হাফিজুর রহমান — ৬৯ ভোট।

উল্লেখ্য, এ আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, বিএনপির দুই বিদ্রোহীসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আসনটিতে মোট ৫৫ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে।

বিজয়ের পর সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বলেন, আমার এ বিজয় সত্যের বিজয়। কোনো অন্যায়ের সঙ্গে মাথানত করবো না। যতদিন আছি, ইনসাফ ও ন্যায্যতার জন্য লড়ে যাবো।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা এবং পোস্টাল ব্যালটের নির্ণায়ক ভূমিকার কারণে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের নির্বাচনটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়ে উঠেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ফলাফল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চললেও চূড়ান্তভাবে মাত্র ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানেই নির্ধারিত হয়েছে বিজয়-পরাজয়।