
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় সংঘটিত এক সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া ৪৬২টি খালি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করেছে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া সিলিন্ডারগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৩ লাখ টাকা। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ট্রাকচালক ও তাঁর সহকারী।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার গকুলনগর টানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়। অভিযানটি গতকাল রাত ২টা পর্যন্ত পরিচালিত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৮ জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ট্রাকচালক আসলাম খান ও তাঁর সহকারী রিফাত একটি ট্রাকে করে ৪৬২টি খালি এলপিজি সিলিন্ডার বহন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। গন্তব্যের দিকে যাওয়ার পথে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের বাচামারা এলাকায় পৌঁছালে সাত থেকে আট জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ট্রাকটির গতিরোধ করে।
ডাকাতরা ধারালো অস্ত্রের মুখে চালক ও তাঁর সহকারীকে জিম্মি করে এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে ট্রাকসহ সিলিন্ডারগুলো এবং তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় শিবচর থানায় একটি ডাকাতির মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে জানতে পারে, লুট হওয়া সিলিন্ডারগুলো ঢাকা জেলার সাভার ও আশুলিয়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
এরপর ঢাকা জেলার সাভার ও আশুলিয়া থানার একাধিক স্থানে একযোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের এক সদস্য আতিক তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আতিকের বাড়ির তালা ভেঙে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তাঁর বসতঘরের পাশের একটি টিনশেড ঘর ও খোলা আঙিনায় রাখা অবস্থায় লুট হওয়া ৪৬২টি খালি এলপিজি সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫০টি সিলিন্ডার ভাঙা ও দ্বিখণ্ডিত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যেগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে কাটাছেঁড়া করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের ধারণা, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে সিলিন্ডার লুট করে কেটে স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করছিল।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, “ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যাসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে মাদারীপুর জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সিলিন্ডারগুলো আইনি প্রক্রিয়া শেষে মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :