
নাদিম হায়দার, স্টাফ রিপোর্টার:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার দক্ষিণ কুসুমপুর এলাকায় মসজিদের মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে রেজোয়ানুল হক (৩৮) নামে এক যুবকের হামলায় মসজিদের সহ-সভাপতি গিয়াসউদ্দিন (৭০) আহত হয়েছেন।
গত সোমবার জোহরের নামাজের পর দক্ষিণ কুসুমপুর রিয়াজুল জান্নাত জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী রেজোয়ানকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার চেষ্টা করে। পরে দুই পক্ষই উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ধীরনের কাছে গেলে তাদেরর ন্যায় বিচার করার আশ্বাস দেয়। কিন্তু তার পরেই রেজোয়ান তার বড়ীর সামনে গিয়াস উদ্দিন কে একা পেয়ে তার উপর হামলা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রেজোয়ানুল হক মসজিদের আজান ও মাইকের শব্দ নিয়ে বিরোধিতা করে আসছিলেন। সোমবার জোহরের নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই তিনি মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে মাইক খুলে ফেলার জন্য চিৎকার শুরু করেন। এসময় মসজিদের প্রবীণ সহ-সভাপতি গিয়াসউদ্দিন তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলে রেজোয়ান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে রেজোয়ান অতর্কিতে গিয়াসউদ্দিনের ওপর হামলা চালান এবং তাকে মারধর শুরু করেন। একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির ওপর এমন হামলা দেখে উপস্থিত মুসল্লিরা হতভম্ব হয়ে যান। মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা এবং গিয়াসউদ্দিনকে বাঁচাতে গিয়ে উত্তেজিত জনতা রেজোয়ানকে ঘেরাও করে ফেলে এবং তাকে গণধোলাই দেয়।
মারধরের করে রেজোয়ান ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও পরে তিনি থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা রেজোয়ানের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। এলাকাবাসীর দাবি, রেজোয়ান পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় কাজে বাধা দিচ্ছেন এবং প্রবীণ ব্যক্তিদের ওপর হাত তুলে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।
আহত সহ-সভাপতি গিয়াসউদ্দিন বলেন, “আমি তাকে বুঝিয়ে বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি কোনো কথা না শুনেই আমার ওপর চড়াও হন। মূলত মসজিদের কার্যক্রম ব্যাহত করাই তার মূল উদ্দেশ্য।”
আপনার মতামত লিখুন :