
আবুল হাসানাত (আকাশ), শিবচর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে কিশোরদের মধ্যে মাদক সেবন ও ইয়াবা বিক্রির প্রবণতা। সহজলভ্যতা ও তুলনামূলক কম দামের কারণে উঠতি বয়সী অনেক কিশোর জড়িয়ে পড়ছে এই ভয়াবহ মাদক চক্রে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল কারবারিরা নিজেদের আড়ালে রাখতে কিশোরদের ব্যবহার করছে, ফলে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে তাদের ভবিষ্যৎ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবচর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের অলিগলি থেকে শুরু করে নির্জন এলাকাগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ইয়াবা কেনাবেচা। প্রথমে বন্ধুদের প্ররোচনা কিংবা কৌতূহলবশত অনেক কিশোর মাদক গ্রহণ শুরু করলেও পরে নেশার খরচ চালাতে নিজেরাই মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদকসেবীর দাবি, খুচরা বাজারে প্রতি পিস ইয়াবা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও সরবরাহের কাজে যুক্ত কিশোরদের কাছে তা ২০০ টাকায় দেওয়া হয়। দিনে অল্প কয়েকটি ইয়াবা বিক্রি করেই তারা নিজেদের নেশার খরচ তুলে ফেলতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার একাধিক ওয়ার্ডে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে কিশোর মাদক বিক্রেতাদের ছোট ছোট নেটওয়ার্ক। অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে তারা আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে এসব বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না।
সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মতে, কিশোরদের মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন কঠোর মাদকবিরোধী অভিযান, পারিবারিক নজরদারি বৃদ্ধি এবং সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা।
এ বিষয়ে শিবচর থানা–এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন,মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।
অন্যদিকে মাদারীপুর ১ আসনের এমপি সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, কেউ মাদক ব্যবসায়ীকে ধরিয়ে দিলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পুরস্কৃত করবেন। তিনি জানান, শিবচরকে মাদকমুক্ত করতে অতীতেও কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন,মাদক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে আমার দলের কেউ বা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পরিচয় বা প্রভাব কোনো কিছুই বিবেচনায় নেওয়া হবে না।
আপনার মতামত লিখুন :