
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মাদারীপুরের শিবচরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করেছেন বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাভলুর কর্মী-সমর্থকরা।
সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাঁচ্চর এলাকায় এ বিক্ষোভ ও অবরোধের ঘটনা ঘটে।
এ সময় রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও পণ্যবাহী যানবাহন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকরা।
স্থানীয়রা জানান, দলীয় মনোনয়ন তালিকায় মাদারীপুর-১ আসনে সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাভলুর নাম বাদ পড়ে যায়। এর প্রতিবাদে তার সমর্থকরা হঠাৎ করে এক্সপ্রেসওয়ের পাঁচ্চর অংশে নেমে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করেন। বিক্ষুব্ধরা এ সময় “অন্যায় সিদ্ধান্ত মানি না” ও “দলীয় মনোনয়ন চাই” স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা বেশ কিছু যানবাহনে ভাঙচুর চালান, যার মধ্যে একটি যাত্রীবাহী বাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
খবর পেয়ে শিবচর থানা ও হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে বিক্ষোভকারীরা শুরুতে পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে সড়ক অবরোধ চালিয়ে যান। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শিবচর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিক্ষোভকারীর সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তখন তা সম্ভব হয়নি।”
অবরোধ চলাকালীন এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নারী ও শিশু যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য অনেকে রাস্তা ছেড়ে আশেপাশের ঘরবাড়ি ও দোকানে আশ্রয় নেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত সেনা বা র্যাব মোতায়েন না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত।
শিবচর পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, “রাতের বেলায় এমন সড়ক অবরোধে সবাই ভয় পেয়ে যায়। বিশেষ করে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্ত পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।”
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে জেলা প্রশাসন ও বিএনপির স্থানীয় নেতারা যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাভলু নিজে ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকদের শান্ত করেন। তার আহ্বানে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আপনার মতামত লিখুন :