
বাড়ি ভাতা ২০ শতাংশ, চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকা এবং কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ নির্ধারণসহ ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মাদারীপুরের শিবচরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে শিবচর উপজেলা শহীদ মিনার চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় মুখে কালো কাপড় বেঁধে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী মানববন্ধন ও বিক্ষোভে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. নুরুল আমিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উপাধ্যক্ষ দীনেশচন্দ্র সরকার এবং সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক একলাসউদ্দিন চুন্নু।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পাচ্চর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাজী ইলিয়াস হোসেন, ড. নুরুল আমিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রভাষক মুহা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, শিরুযাইল আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক রুপালি বেগম এবং আল-বাইতুল মামুর ফাজিল মাদ্রাসা অ্যান্ড বি.এম. কলেজের শিক্ষক মাওলানা মাহফুজুর রহমান।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা অবমূল্যায়ন ও আর্থিক বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। একজন শিক্ষক আজ গার্মেন্টস কর্মীর চেয়েও কম বেতন পান—যা দেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, অবিলম্বে শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়ন করতে, অন্যথায় সারাদেশে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সভাপতি দীনেশচন্দ্র সরকার বলেন, “পেটে ক্ষুধা, বুকে জ্বালা, অন্তরে ব্যথা নিয়েই আজ শিক্ষক সমাজ রাজপথে নেমেছে। শিক্ষককে অভুক্ত রেখে জাতি গঠন সম্ভব নয়। আমাদের দাবি আদায় না হলে আন্দোলন আরও বেগবান হবে।
বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড হলেও শিক্ষকদের ন্যায্য প্রাপ্য আজও নিশ্চিত হয়নি। তাঁরা সরকারের কাছে দ্রুত ভাতা বৃদ্ধিসহ এমপিওভুক্তদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত শিক্ষক-কর্মচারীরা একযোগে স্লোগান দেন— “শিক্ষক বাঁচাও, শিক্ষা বাঁচাও”, “ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন কর, সরকার কর”। পরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন।
আপনার মতামত লিখুন :