
আবুল হাসানাত (আকাশ),
শিবচর প্রতিনিধি:
মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিবচরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তারের নির্বাচনী প্রচারণায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মীর প্রকাশ্যে উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই নিষিদ্ধ সংগঠনের এসব নেতা-কর্মীর দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শিবচর থানায় ঘেরাও ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘শিবচরের সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেন।
জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিবচর পৌরসভার খান বাড়িতে অনুষ্ঠিত বিএনপি প্রার্থী নাদিরা আক্তারের উঠান বৈঠকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অন্তত ২০ জন আলোচিত নেতা-কর্মী প্রকাশ্যে উপস্থিত হন। তাঁরা প্রার্থীকে বিজয়ী করতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই ঘটনার পরই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পুনরায় প্রকাশ্যে এসে আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এর প্রতিবাদে ‘জুলাই যোদ্ধারা’ একত্রিত হয়ে উপজেলা সদরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিবচর থানার সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে প্রায় অর্ধশত বিক্ষোভকারী ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
পরে বিক্ষোভকারীদের একটি প্রতিনিধি দল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে।
আন্দোলনকারীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন শাহাদাত হোসেন মিশন। তিনি বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি জানিয়েছি এবং ওসিকে ২৪ ঘণ্টার সময় দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে প্রকাশ্যে আসা আওয়ামী দোসরদের গ্রেপ্তার না করা হলে পাঁচ হাজার মানুষ নিয়ে থানা ঘেরাও করা হবে। দীর্ঘ ১৭ বছর যারা স্বৈরাচারী শাসন চালিয়েছে, তারা কীভাবে আবার প্রকাশ্যে রাজনীতি করে—শিবচরের জনগণ তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।”
এ বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, বিক্ষোভকারীরা নিজেদের জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সক্রিয় থাকা আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দেওয়া স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি ঘিরে শিবচরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন :