
আবুল হাসানাত (আকাশ), শিবচর প্রতিনিধি:
নির্বাচনের আগে মানুষের পাশে থাকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবে রূপ দিতে মাঠে নেমেছেন মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। সম্প্রতি গভীর রাতে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের হাতে খাবার পৌঁছে দেন তিনি।
নির্বাচনের আগে এক বক্তব্যে সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বলেছিলেন, ‘যদি এমপি হতে পারি, তাহলে দেখিয়ে দেব হযরত উমরের জামানা কেমন ছিল। আমি নিজে ঘরে ঘরে গিয়ে খাবার দিয়ে আসব, আমার কাছে আসতে হবে না।’
নির্বাচনের পর তাঁর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে সেই বক্তব্যের প্রতিফলন দেখা গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। রাত ১০টার দিকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলে গভীর রাত পর্যন্ত। এ সময় তিনি নিজে বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন।
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রিকশা প্রতীকে নির্বাচন করে বিজয়ী হন সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা।
হানজালার কর্মী ওমর ফারুক জানান, মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণের এ উদ্যোগটি নিয়ে কোনো ধরনের প্রচারণা চাননি সংসদ সদস্য। এমনকি বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য, কয়েকজন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে একটি পিকআপে করে রাতে কুতুবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যান হানজালা। এরপর স্থানীয়দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার পৌঁছে দেন।
খাবার বিতরণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন এমপি হানজালা। তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এ সময় স্থানীয় বৃদ্ধা সমিরুন্নেছা হানজালার মাথায় হাত রেখে তাঁর জন্য দোয়া করেন। তিনি বলেন, ‘এর আগে কোনো এমপিকে আমরা চোখেও দেখি নাই। এই এমপি খাবার নিয়ে আমার ঘরের দুয়ারে আইছে। আল্লাহ তারে অনেক দিন বাঁচায় রাখুক।’
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে হানজালার বর্তমান উদ্যোগের যথেষ্ট মিল রয়েছে। ভোটের আগে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সেবা করার যে কথা তিনি বলেছিলেন, রাতের আঁধারে নিজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়াকে তাঁরা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বলেন, ‘আমি আমার নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া সকল কথাই একে একে রাখব, ইনশাআল্লাহ। আমাকে একটু সময় দিন।’
এমপির গভীর রাতে সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়া এবং তাঁদের খোঁজখবর নেওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :