বিদ্যুতের খুঁটি আছে, সংযোগ নেই: চার বছর ধরে অন্ধকারে শিবচরের উম্মে হানির পড়াশোনা


admin প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৮, ২০২৬, ৫:৩২ PM /
বিদ্যুতের খুঁটি আছে, সংযোগ নেই: চার বছর ধরে অন্ধকারে শিবচরের উম্মে হানির পড়াশোনা

আবুল হাসানাত (আকাশ), শিবচর প্রতিনিধি:

বাড়ির পাশেই দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যুতের খুঁটি। আশপাশের প্রায় সব বাড়িতেই জ্বলছে বিদ্যুতের আলো। অথচ সেই আলো থেকে বঞ্চিত মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চর শেখপুর বাঁশকান্দি গ্রামের হাবিবুর রহমানের পরিবার। টানা চার বছর ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি। বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি ও মোবাইলের আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে পরিবারের সন্তান উম্মে হানিকে।

উম্মে হানি সরকারি বারহামগঞ্জ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সামনে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে প্রতিদিনই নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎবিহীন ঘরে বসে পড়াশোনা করা যেমন কষ্টকর, তেমনি রাতের অন্ধকারে মোমবাতি কিংবা মোবাইলের ক্ষীণ আলোয় বই পড়তে গিয়ে ব্যাহত হচ্ছে তার লেখাপড়া।

উম্মে হানির বাবা হাবিবুর রহমান ও মা সেলিনা বেগম। বড় বোন হাজেরা আক্তার। পরিবারটির আর্থিক অবস্থাও সচ্ছল নয়। সংসারের ব্যয় মেটাতে উম্মে হানির মা একটি মাদ্রাসায় রান্নার কাজ করেন। আর নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে কলেজে পড়ার পাশাপাশি টিউশনি করেন উম্মে হানি।

পরিবারের অভিযোগ, বাড়ির পাশে বিদ্যুতের খুঁটি থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা সংযোগ পাচ্ছেন না। আশপাশের বাড়িগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও তাদের ঘর রয়ে গেছে অন্ধকারে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেশী বাবুল বেপারীর বাধার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ পরিবারের। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিলেও তাতে কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি।

উম্মে হানি বলেন,বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে মোমবাতি ও মোবাইলের আলো দিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। প্রচণ্ড গরমে এভাবে পড়াশোনা করা খুব কষ্টকর। আমি পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। তাই দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি।

সরকারি বারহামগঞ্জ কলেজের প্রভাষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একটি পরিবার চার বছর ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকবে, এটি খুবই দুঃখজনক। এর মধ্যে একজন শিক্ষার্থীকে এমন প্রতিকূল পরিবেশে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। তার ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দ্রুত পরিবারটির বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করা উচিত।’

এ বিষয়ে মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শিবচর কার্যালয়ের ডিজিএম অভিলাষ চন্দ্র পাল বলেন,এ বিষয়ে আমি অবগত নই। যদি সত্যিই পরিবারটি বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় বসবাস করে থাকে, তাহলে বিষয়টি দেখে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে।

পরিবারটির দাবি, উপজেলা প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করা হোক।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দীর্ঘ চার বছরের এই অন্ধকারের অবসান ঘটবে দ্রুতই।

2